-->

চবি স্কুল এন্ড কলেজের সুবর্ণজয়ন্তী যেন পুরোনো দিনের হাতছানি

কেউ এসেছেন পুত্র-কন্যাকে সাথে নিয়ে আবার কেউ এসেছেন নাতি নাতনিকে নিয়ে। আবার অনেকেই এসেছেন স্বপরিবারে।
শনিবার (১৮ জানুয়ারি) সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে এভাবেই প্রক্তন ও বর্তমান ছাত্রছাত্রীদের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ল্যাবরেটরি স্কুল এবং কলেজ প্রাঙ্গন। দীর্ঘদিন পর সেই পুরোনো ক্যাম্পাসে এসে প্রাক্তনরা যেন তাদের সেই পুরুনো ক্যাম্পাস জীবনেই ফিরে গেছেন। এসময় প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা আবারও মেতে উঠেছেন সেই পুরোনো দিনের মতো হাসি গান আর আড্ডায়। পুরুনো বন্ধুদের আবারও কাছে পেয়ে কেউবা মেতে উঠছেন আড্ডায়। আবার কেউ কেউ উৎসবের সুন্দর সুন্দর মুহুর্তগুলোকে ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন। আবার প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের এভাবে কাছে পেয়ে আনন্দ ও কৃতজ্ঞতার যেন শেষ নেই বর্তমান ছাত্রছাত্রীদের। প্রাক্তন ছাত্রদের সাথে একইসাথে হাসি গান আর আড্ডায় মেতে উঠেছেন বর্তমান ছাত্রছাত্রীরাও।




স্কুলের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটের সাবেক ডেপুটি রেজিস্টার পুষ্পল কান্তি পালিত এসেছেন তার নাতনীকে সাথে নিয়ে। তিনি জানান তিনি, তার দুই পুত্র এবং তার নাতনীসহ মোট তিন প্রজন্ম এই স্কুলেরই শিক্ষার্থী।
তিনি বলেন, এই স্কুলের শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন থেকে দেশের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখছেন। আমাদের সময়ে এই স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্রছাত্রীরা কুমিল্লা বোর্ডের অধীনে সেরা পজিশনে অবস্থান করত। কুমিল্লা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও এইএসসি পরীক্ষাতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়স্থানসহ অনেক ভালো ভালো রেজাল্টের স্বাক্ষর রেখেছিলেন এই স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এই সময়ে এসে সেই ভালো রেজাল্টের ধারাটি ব্যাহত হয়েছে। বর্তমান ছাত্রছাত্রীদের উচিত এই স্কুলের পুরুনো সেই ঐতিহ্যকে আবারও ফিরিয়ে আনা।
বেলা সোয়া এগারোটার দিকে আনন্দ র‍্যালির মধ্য দিয়েই শুরু হয় সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব। র‍্যালি শেষে ধর্মগ্রন্থ পাঠ, জাতীয় সঙ্গিত ও পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবের আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব রাসেদ বিন আমিন চৌধুরী। পরবর্তিতে স্কুল ও কলেজ জীবনের স্মৃতিচারণ করেন স্কুল ও কলেজের বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপিক ড. শিরিণ আখতার। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন চবি ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সিরাজ উদ দৌল্লাহ, চবি প্রক্টর এসএম মনিরুল হাসান। এবং অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবের আহবায়ক ডাঃ প্রিতিশ বড়ুয়া।
চবি ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সিরাজ উদ দৌল্লাহ বলেন, চবির বিভিন্ন পদক্ষেপের সাথে এই স্কুল ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই প্রতিষ্ঠানের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের গভর্নেন্স সিস্টেম জড়িত। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম জড়িত। এই প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে রেখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কখনও মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই প্রতিষ্ঠান ভিবিষ্যতে আরও গৌরবান্বিত হবে।
তিনি আরও বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্যা চিহ্নিত করার জন্য একটি সংগঠনের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই এই প্রতিষ্ঠানকে যদি উন্নতির শিখরে নিতে চাই তাহলে এখানে প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে সংগঠন হতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর এসএম মনিরুল হাসান বলেন, অনেক কিংবদন্তীতুল্য ব্যক্তিত্ব এই স্কুল এবং কলেজে ছিলেন। শুধু শিক্ষকদের কথা নয় কিংবদন্তীতুল্য ছাত্র-ছাত্রীদের কথাও আমি শুনেছি যারা এখন দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন আছেন। কিন্তু বর্তমানে এই কলেজ ও স্কুলটা আগের মত নেই। এটি অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষকদের অনেক সমস্যা ও ছাত্র-ছাত্রীদের অনেক সমস্যার ব্যাপার পরিলক্ষিত হয়েছে। তারপরেও আমার কাছে মনে হচ্ছে আজকের এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নতুন একটা সময়ের সূচনা হবে। নতুন একটা সম্ভাবনার সূচনা হবে এবং আমরা সবাই এক নতুন সম্ভাবনার অংশীদার হব সেই প্রত্যাশা করতেছি।
স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও ফাইন্যান্স মিনিশট্রি এর ফাইন্যান্স বিভাগের যুগ্ম সম্পাদক শেখ মোমেনা মনি বলন, আমি সোনালী অতীতের কথা বলছি। এই স্কুলে পড়তে পেরে আমরা গর্বিত। আশা করছি শুধু সোনালী অতীতের স্মৃতিচারণ করেই থাকব না। যেসব সমস্যা আছে সেগুলোও দেখব। ভবিষ্যতে কিভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি সেটুকুও দেখব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরিণ আখতার বলেন, এই স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন ভালো ভালো জায়গায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছে। এই স্কুল এবং কলেজের একটি সুন্দর ঐতিহ্য থাকলেও বর্তমানে বিভিন্ন ধরণের সমস্যা লক্ষ্য করা যাচ্ছে এখানে। এই স্কুল এন্ড কলেজের উন্নতির জন্য আমি আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
তিনি আরও বলেন, এই স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক ছাত্রছাত্রীরা অনেকেই অনেক ভাল ভাল জায়গায় প্রতিষ্ঠিত। চাইলে এই সাবেকদের সার্বিক সহযোগীতার মাধ্যমে এই স্কুল ও কলেজের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব।
এসময় তিনি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই সভাপতি ও ভাল শিক্ষক নিয়োগের আশ্বাস দেন।

Baca juga

;