-->

জেনে নিন নেক সুরতে দেয়া শয়তানের ৩টি ধোঁকা



আসসালামু আলাইকুম সবাই কেমন আছেন…..? আশা করি সবাই ভালো আছেন । আমি আল্লাহর রহমতে ভালোই আছি ।আসলে কেউ ভালো না থাকলে TrickBD তে ভিজিট করেনা ।তাই আপনাকে TrickBD তে আসার জন্য ধন্যবাদ ।ভালো কিছু জানতে সবাই TrickBD এর সাথেই থাকুন ।

জেনে নিন নেক সুরতে দেয়া শয়তানের ৩টি ধোঁকা


শয়তান সর্বদা মানুষকে ধোঁকা দেয়ার চেষ্টা করে। শয়তান যে সবসময় শয়তানের সুরতে ধোঁকা দিবে বিষয়টা কিন্তু এমন নয়। বরং এমন অনেক পরিস্থিতি আছে যেখানে শয়তান নেক সুরতে ধোঁকা দেয়। প্রাথমিক ভাবে হয়তো আপনার কাছে মনে হবে এটা ভাল কাজ কিন্তু গভীর ভাবে চিন্তা করলে বুঝবেন এটা যে শয়তানের ধোঁকা।
শয়তান মানুষের সৃষ্টির শুরু থেকে শত্রু। আমাদের আদি পিতা হযরত আদম আঃ আর আদি মাতা হযরত হাওয়া আঃ থেকে শুরু করে কিয়ামত পর্যন্ত শয়তান মানুষকে ধোঁকা দিতে থাকবে। শয়তানের শয়তানি এক এক সময় এক এক রকম হয়। মানুষকে ধোঁকায় ফেলার প্রতিজ্ঞা স্বয়ং আল্লাহর নিকট ব্যক্ত করেছে। সুতরাং একজন মুসলমান হিসাবে তার চক্রান্ত এবং ধোঁকা সম্পর্কে জেনে রাখা জরুরি। অন্যথায় শয়তানের চক্রান্তে পরে জাহান্নামে যেতে হবে। আর তাই এজন্য শয়তানের বেশ কিছু চক্রান্ত নিয়ে এই লেখায় আলোচনা করা হয়েছে।
নেক সুরতে শয়তানের ধোঁকা
১. নামায না পড়লে কী হয়েছে, ঈমান ঠিক আছে
বর্তমান সময়ে সবচেয়ে জঘন্য কথা এটি। অনেকে এই কথা বলে মনে করে নামায থেকে মুক্তি পেয়ে গেছে। অথচ রাসূল সাঃ বলেন,
ব্যক্তি ও শিরক-কুফরের মাঝের পার্থক্য রেখা হল, নামায।
-সহীহ মুসলিম, হাদিস: ৮২
উক্ত বাক্যটি উচ্চারণ করে, সে তার নামায না পড়াকেও জায়েজ করে নেয়। কিন্তু নামায ফরয হুকুম এটা অমান্য করার কোন অবকাশ নেই। শয়তানের ধোঁকায় পরে প্রতিনিয়ত মানুষ এই শয়তানি কথা বলে থাকে।
এই বাক্যটি উচ্চারণের দ্বারা ইসলামের ফরয হুকুমকেও অবহেলা করা হয়। ফলে নামায না পড়ে যেমন গুনাহগার হতে হবে, তেমনি এই বাক্য উচ্চারণ করার দ্বারাও গুনাহগার হতে হবে। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত এই বাক্য পরিহার করা এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে যত্নবান হওয়া।
২. আরবি সাহিত্য কিংবা অনান্য দুনিয়ার জ্ঞানে সময় ব্যয়
অনেকে দুনিয়ার জ্ঞান অর্জনে এতো বেশী ব্যস্ত হয়ে পরে যে, শরীয়ত মোতাবেক জীবন পরিচালনার জন্য যে জ্ঞান প্রয়োজন তা আর অর্জন করতে পারে না। আবার অর্জন করলেও তা আর আমল করতে পারে না।
এদের মধ্যে আবার কিছু মানুষ আছে যারা আরবি সাহিত্যে কিংবা ভাষায় পাণ্ডিত্য অর্জনের জন্য সর্বদা ব্যস্ত থাকে। তারা মনে করে আমরা তো ইসলামের ভাষা নিয়েই জ্ঞান অর্জন করছি। এসব পরিস্থিতি আল্লামা ইবনুল জাওযী রহ. তাঁর নেক সুরতে শয়তানের ধোঁকা বইতে বলেন,
শরীয়ত মোতাবেক জীবন পরিচালনা করতে যে জ্ঞানের প্রয়োজন, যা শিক্ষা করা প্রত্যেকের উপর ফরযে আইন, শিষ্টাচার ও আত্মার পরিশুদ্ধির জন্য যা শিক্ষা করা তাদের জন্য উত্তম তারা তা শিখার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করে না। সবচেয়ে বড় কথা হল, কোরআন হাদিসের ব্যাখ্যা ও ইসলামী আইনশাস্ত্রে পাণ্ডিত্য অর্জন করা দুনিয়াবি এবং আরবি সাহিত্য থেকে সর্বোত্তম।
শরীয়তের জ্ঞান না থাকলে, শরীয়তকে সঠিক ভাবে অনুসরণ করা সম্ভব না। ইসলামি জ্ঞানহীন মানুষ ইবাদতের মধ্যে শিরক এবং বিদআতে লিপ্ত হয়। ফলে ইবাদত এক পর্যায়ে তার জন্য গুনাহের কারণ হয়ে দাড়ায়।
আজকাল তো কিছু মানুষকে বলতে শোনা যায়, রাসূল সাঃ নাকি জ্ঞান অর্জনের জন্য সুদূর চীন দেশে যেতে বলেছেন। অথচ এটা কোন হাদিস নয়। তবে রাসূল সাঃ শরীয়তের জ্ঞান অর্জন করাকে প্রতিটি মুসলমানের জন্য ফরয করেছেন।
তাই মুসলমান হিসাবে প্রত্যেকের উচিত শরীয়ত মোতাবেক চলার জন্য যেসকল জ্ঞান অর্জন করা প্রয়োজন সেসব জ্ঞানের পেছনে সময় ব্যয় করা।
৩. বিবাহ কিংবা ইসলামি কাজে অপচয়
বিবাহ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। কিন্তু আজকাল অধিকাংশ মানুষ বিবাহ ইসলামের রীতি-নীতি অনুযায়ী করে না। তারা বিদেশী সংস্কৃতিতে বিবাহ করে এবং মনে করে এটাই ইসলামের রীতি। আবার কাউকে বলতে শোনা যায়, ইসলাম এসব করতে নিষেধ করেনি (নাউযুবিল্লাহ)। বিবাহকে কেন্দ্র করে ভিডিও করা, গান–বাজনা করানোর জন্য শিল্পী ভাড়া করে আনা, প্রয়োজন অতিরিক্ত সাজ-গোঁজ আর পার্লার খরচ। এছাড়া বিবাহকে কেন্দ্র করে গায়ে হলুদের নাম করে অর্থ অপচয় তো আছেই। অথচ ইসলামে এসকল কাজ সম্পূর্ণ হারাম।
অপরদিকে আজকাল বেশ কিছু মুসলমান আছে যারা বিভিন্ন কারণে মসজিদ আলোক সজ্জা কিংবা অনান্য খাতে অযথা অর্থ অপচয় করে। অথচ এসব কাজ করার জন্য কুরআন হাদিসের কোথাও বলা হয়নি।
মুগীরা ইবনে শোবা (রাঃ)-র সচিব ওয়াররাদ থেকে বর্ণিতঃ
মুয়াবিয়া (রাঃ) তাকে পত্র লিখলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর মুখে তুমি যা শুনেছ তা আমাকে লিখে পাঠাও। ওয়াররাদ বলেন, মুগীরা (রাঃ) আমার দ্বারাই লেখালেন এবং আমি স্বহস্তে লিখলাম। আমি তাকে “বেশী যাঞ্চা করতে, অর্থের অপচয় করতে এবং গুজবে কান দিতে নিষেধ করতে শুনেছি”
-বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ
মুসলমান হিসাবে প্রত্যেকের উচিত  অপচয় থেকে বিরত থাকা। কেননা অপচয় করা শয়তানের কাজ। আর ইসলামে অপচয় করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে।
শেষ কথা
শয়তানের ধোঁকা থেকে বাঁচার অনেক উপায় আছে। যেমন আমরা কুরআন তিলাওয়াত করার পূর্বে আ‘ঊযুবিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজীম পড়ে নেই যাতে শয়তান ধোঁকা দিতে না পারে।
এছাড়া নিয়মিত নামায আদায় করা। প্রত্যেক ফরয নামাযের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করা। সকল-সন্ধ্যা সূরা নাস, ফালাক এবং ইখলাস তিনবার পাঠ করা ইত্যাদি আরও অসংখ্য আমল হাদিসে এসেছে। আল্লাহ আমাদের সকলকে শয়তানের ধোঁকা থেকে বেঁচে থাকা তৌফিক দান করুক। আমীন

 
দ্বীনি কথা শেয়ার করে আপনিও ইসলাম প্রচারে অংশগ্রহণ করুন।
This blog uses premium CommentLuv

Baca juga

;